🙏 জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি — বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র 🙏
আজ ৪ঠা আগস্ট। বাঙালির সবচেয়ে চেনা কণ্ঠস্বরের মানুষটির জন্মদিন।
তিনি কোনও দিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাততালি কুড়োননি। তাঁর মুখ অনেকেই চিনতেন না। কিন্তু তাঁর কণ্ঠ? সেই কণ্ঠ চেনে না, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া কঠিন।
মহালয়ার ভোরে যখন অন্ধকার এখনও কাটেনি, যখন রেডিওর নব ঘুরিয়ে গোটা পরিবার চুপ করে বসে থাকে — তখন যে কণ্ঠ ভেসে আসে, সেটাই বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। "মহিষাসুরমর্দ্দিনী"-র সেই চণ্ডীপাঠ। সেই মুহূর্তে আমরা বুঝে যাই, মা আসছেন।
বাণীকুমারের রচনা, পঙ্কজ কুমার মল্লিকের সুর — আর তাঁর কণ্ঠ। এই তিনজন মিলে যা সৃষ্টি করেছিলেন, তা আর নিছক একটি বেতার অনুষ্ঠান রইল না। হয়ে উঠল বাঙালির উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা।
সেই সুরে, সেই কণ্ঠে ভাসে দেবী মহাত্ম্যের অনন্ত বার্তা:
যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥
(যে দেবী সকল প্রাণীতে শক্তিরূপে বিদ্যমান, আমরা তাঁকে বারবার প্রণাম করি।)
যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥
(যে দেবী সকল প্রাণীতে মাতারূপে বিদ্যমান, আমরা তাঁকে বারবার প্রণাম করি।)
যা দেবী সর্বভূতেষু বুদ্ধিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥
(যে দেবী সকল প্রাণীতে বুদ্ধিরূপে বিদ্যমান, আমরা তাঁকে বারবার প্রণাম করি।)
এই শ্লোকগুলি শুনলেই বাঙালির চোখ ভিজে যায়। কারণ এটা শুধু স্তোত্র নয় — এটা ঘরে ফেরার ডাক। মা আসছেন, এই খবরটুকু।
একটা কথা আজ মনে পড়ে। একবার এই অনুষ্ঠান বদলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, অন্য কণ্ঠে। বাংলা তা মেনে নেয়নি। প্রতিবাদের চাপে পরের বছরই ফিরে এল সেই পুরনো রেকর্ডিং। মানুষ ভালোবাসা দিয়ে যা রক্ষা করে, সময় তা মুছতে পারে না।
তিনি নেই। কিন্তু প্রতি বছর মহালয়ার ভোরে তিনি ফিরে আসেন। ঠাকুমার ঘরে যে কণ্ঠ বেজেছিল, আজ নাতির মোবাইলেও সেই একই কণ্ঠ বাজে। প্রজন্ম বদলায়, যন্ত্র বদলায় — তিনি বদলান না।
আজ তাঁর জন্মদিনে সতীন সেন সংসদ (সংঘ)-এর পক্ষ থেকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
আপনার কণ্ঠেই আমাদের পুজো শুরু হয়। আপনি বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। 🙏