সতীন সেন সংসদ (সংঘ)

নপাড়া সম্মিলিত সার্বজনীন দুর্গোৎসব ২০২৬

আসন্ন দুর্গা পূজার প্রস্তুতি ধাপে ধাপে — খুঁটি পূজা থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সমস্ত আপডেট, ছবি ও খবর এখানে নিয়মিত প্রকাশিত হবে।

শুভ বিজয়া—আবার এসো মা

শুভ বিজয়া—আবার এসো মা

সিঁদুরের রঙ, ঢাকের শেষ তাল আর অশ্রুসজল চোখে আজ মাকে বিদায় জানানোর পালা। আনন্দের উৎসব শেষে মা ফিরে যাচ্ছেন কৈলাসে, রেখে যাচ্ছেন ভালোবাসা, শক্তি ও অসংখ্য স্মৃতি।

আসছে বছর আবার হবে—আবার এসো মা। সকলকে শুভ বিজয়ার আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

জলের বুকে ময়ূরীর দেশ

৭৭তম বর্ষে নপাড়া সম্মিলিত সর্বজনীন দুর্গোৎসব—সতীন সেন সংসদ-এর বিশেষ আকর্ষণ জলের উপর নির্মিত অনন্য মণ্ডপ। এবারের ভাবনা “ময়ূরীর দেশে”—যেখানে শিল্প, প্রকৃতি ও কল্পনার মেলবন্ধনে ফুটে উঠেছে এক মায়াবী জগৎ।

আমাদের এই বিশেষ আয়োজন দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম রিপাবলিক বাংলা।

মিডিয়া পার্টনার: রিপাবলিক বাংলা

শুভ মহানবমী—ভক্তির শেষ প্রহর

শুভ মহানবমী—ভক্তির শেষ প্রহর

ধূপের সুবাস, মন্ত্রোচ্চারণ আর ঢাকের তালে শুরু হলো মহানবমীর আরাধনা। উৎসবের আনন্দের মাঝেই মনে বাজে বিদায়ের সুর—আর মাত্র কিছুক্ষণ আমাদের মাঝে থাকবেন মা।

মায়ের আশীর্বাদে সকলের জীবন ভরে উঠুক শান্তি, শক্তি ও সমৃদ্ধিতে।

সকলকে জানাই শুভ মহানবমীর আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

শুভ মহাষ্টমী—ভক্তি ও শক্তির আরাধনা

শুভ মহাষ্টমী—ভক্তি ও শক্তির আরাধনা

অঞ্জলি, মন্ত্রোচ্চারণ এবং ঢাকের পবিত্র তালে শুরু হলো মহাষ্টমীর আরাধনা। মায়ের চরণে নিবেদিত হলো ভক্তি ও প্রার্থনা—দূর হোক সকল অশুভ, জীবনে আসুক শান্তি, সাহস ও সমৃদ্ধি।

সকলকে জানাই শুভ মহাষ্টমীর আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

মর্মান্তিক—উৎসবের মাঝে অপূরণীয় ক্ষতি

মর্মান্তিক—উৎসবের মাঝে অপূরণীয় ক্ষতি

চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের স্মৃতির প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।

নপাড়া সম্মিলিত সার্বজনীন দুর্গোৎসব—সতীন সেন সংসদ এই শোকের মুহূর্তে সকলের পাশে রয়েছে।

বস্ত্র বিতরণ—আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উৎসব

দুর্গোৎসব শুধু আনন্দের নয়, মানবতা ও ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ারও সময়। সেই ভাবনা থেকেই নপাড়া সম্মিলিত সার্বজনীন দুর্গোৎসব—সতীন সেন সংসদ-এর উদ্যোগে আয়োজিত হলো বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি।

নতুন পোশাকের সঙ্গে সবার মুখে ছড়িয়ে পড়ল উৎসবের হাসি।

ভাগ করে নিলেই আনন্দ হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ।

শুভ সপ্তমী—ভক্তিতে জাগুক প্রাণ

শুভ সপ্তমী—ভক্তিতে জাগুক প্রাণ

নবপত্রিকা স্নান, মন্ত্রোচ্চারণ এবং ঢাকের পবিত্র তালে শুরু হলো মহাসপ্তমীর পূজা। মায়ের আশীর্বাদে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ুক আনন্দ, শান্তি ও শুভতার আলো।

সকলকে জানাই শুভ সপ্তমীর আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

শুভ ষষ্ঠী—মা এলেন ঘরে

শুভ ষষ্ঠী—মা এলেন ঘরে

শরতের আকাশ, ঢাকের বাদ্যি আর আনন্দের আলোয় শুরু হলো দেবীপক্ষের উৎসব। ষষ্ঠীর শুভক্ষণে বোধনের মধ্য দিয়ে মা দুর্গা এলেন তাঁর সন্তানদের কাছে।

মায়ের আগমনে আনন্দময় হয়ে উঠুক সবার জীবন। শুভ ষষ্ঠী!

ময়ূরীর দেশে—উৎসবের সূচনা

৭৭ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্য সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠীতে শুরু হলো নপাড়া সম্মিলিত সার্বজনীন দুর্গোৎসব ২০২৬। এবারের ভাবনা “ময়ূরীর দেশে”—যেখানে শিল্প, আলো ও ভক্তির ছোঁয়ায় প্রাণ পেয়েছে এক মায়াবী জগৎ।

ষষ্ঠীর শুভক্ষণে আমরা লাইভ—চলুন, একসঙ্গে উপভোগ করি মায়ের বোধন এবং দুর্গোৎসবের প্রতিটি আনন্দময় মুহূর্ত।

পঞ্চমীর শুরুতেই আমরা লাইভ

পঞ্চমীর আনন্দময় সন্ধ্যায় শুরু হলো আমাদের দুর্গোৎসবের সরাসরি সম্প্রচার। মণ্ডপের আলোকসজ্জা, ঢাকের বাদ্যি এবং মায়ের অপরূপ রূপ—এবার ঘরে বসেই উপভোগ করুন প্রতিটি মুহূর্ত।

উৎসব শুরু—পঞ্চমীর শুরুতেই আমরা লাইভ!

শুভারম্ভ হলো দুর্গোৎসবের

শুভারম্ভ হলো দুর্গোৎসবের

প্রদীপের আলো, ঢাকের বাদ্যি ও মঙ্গলধ্বনির মধ্য দিয়ে শুভ উদ্বোধন হলো আমাদের প্রিয় দুর্গোৎসবের। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সম্মানীয় অতিথিবৃন্দ—কল্যাণ চক্রবর্তী, সজল ঘোষ, কৌস্তভ বাগচী এবং চণ্ডীচরণ রায়।

তাঁদের উপস্থিতি এবং সকলের ভালোবাসায় উদ্বোধনের মুহূর্তটি হয়ে উঠল আনন্দময় ও স্মরণীয়।

মায়ের আশীর্বাদে শুভ হোক পুজোর প্রতিটি মুহূর্ত।

মা এলো ঘরে

ঢাকের তালে, শিউলির সুবাসে আর আনন্দের আলোয় মা দুর্গা এলেন ঘরে। তাঁর আগমনে দূর হলো সব অন্ধকার, হৃদয় ভরে উঠল ভালোবাসা, আশা ও উৎসবের আনন্দে।

মা এলো ঘরে—শুভ শক্তির আলো ছড়িয়ে পড়ুক সবার জীবনে।

জাগো তুমি জাগো, দুর্গা মা

জাগো তুমি জাগো, দুর্গা মা

আগমনীর সুরে জেগে উঠেছে ভোরের আকাশ। শিউলির সুবাস আর ঢাকের তালে চারদিকে ধ্বনিত হচ্ছে—“জাগো তুমি জাগো, দুর্গা মা।”

অশুভ শক্তির বিনাশ করে পৃথিবীকে শান্তি, সাহস ও আশীর্বাদে ভরিয়ে দিতে মা আসছেন তাঁর সন্তানদের কাছে।

শুভ মহালয়া—মা আসছেন

শুভ মহালয়া—মা আসছেন

ভোরের আকাশে আগমনীর সুর, শিউলির সুবাস আর মৃদু হাওয়ায় আজ মায়ের আগমনের বার্তা। মহালয়ার পবিত্র প্রভাতে দেবীপক্ষের সূচনা হয়, আর বাঙালির হৃদয়ে জেগে ওঠে দুর্গাপূজার আনন্দ।

চারদিকে যেন শোনা যায় একটাই আহ্বান—“জাগো দুর্গা, জাগো দশপ্রহরণধারিণী।” অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মা আসছেন তাঁর সন্তানদের কাছে, সঙ্গে নিয়ে আশা, শক্তি ও শুভতার আলো।

নপাড়া সম্মিলিত সার্বজনীন দুর্গোৎসব ২০২৬—সতীন সেন সংসদ-এর পক্ষ থেকে সকলকে শুভ মহালয়া।

এই অপেক্ষার মধ্যে একটা ছাতিম ফুলের গন্ধ আছে কিন্তু!

শরতের নরম হাওয়ায় ভেসে আসছে ছাতিম ফুলের পরিচিত সুবাস। চারদিকে পূজার প্রস্তুতি, আর মনের মধ্যে মায়ের আগমনের আনন্দ। এই গন্ধই যেন বলে যায়—অপেক্ষা আর বেশি দিনের নয়।

মা আসছেন, উৎসব আসছে!

প্রস্তুতি তুঙ্গে

মণ্ডপ নির্মাণ থেকে আলোর সাজ—সবখানেই এখন ব্যস্ততা। শিল্পী ও সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ নিচ্ছে আমাদের স্বপ্নের দুর্গোৎসব।

মা আসছেন—তাই প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে!

প্রণয় পাল - প্রতিমা শিল্পী

প্রণয় পাল - প্রতিমা শিল্পী

মাটির সাধারণ স্পর্শে যিনি ফুটিয়ে তোলেন দেবীর অসাধারণ রূপ, তিনি আমাদের প্রতিমা শিল্পী প্রণয় পাল। তাঁর দক্ষ হাত, গভীর ভাবনা ও শিল্পীসত্তায় ধীরে ধীরে প্রাণ পাচ্ছে ২০২৬ সালের মা দুর্গার প্রতিমা।

খড় ও মাটির কাঠামো থেকে দেবীর মুখের শান্ত অভিব্যক্তি—প্রতিটি ধাপে রয়েছে তাঁর নিষ্ঠা, ধৈর্য ও ভালোবাসার ছোঁয়া। তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়েই আমাদের উৎসবের স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেতে শুরু করেছে।

শিল্পীর হাতে মাটি হয়ে উঠছে মহামায়া।

অপেক্ষার আর ৩০ দিন

অপেক্ষার আর ৩০ দিন

দুর্গাপূজার আর মাত্র ৩০ দিন বাকি! নপাড়া সম্মিলিত সার্বজনীন দুর্গোৎসব ২০২৬—সতীন সেন সংসদ-এর প্রাঙ্গণে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে উৎসবের ব্যস্ততা। মণ্ডপ তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে, শিল্পীদের হাতে ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছেন মা দুর্গা।

প্রতিদিনের প্রস্তুতির সঙ্গে বাড়ছে আনন্দ ও অপেক্ষা। আর মাত্র কয়েকটি দিনের পরেই ঢাকের বাদ্যি, শিউলির সুবাস এবং আলোর ঝলকানিতে ভরে উঠবে চারপাশ।

মা আসছেন—অপেক্ষার আর মাত্র ৩০ দিন!

আমরাও আছি—পূজার সেরা মঞ্চে

আমরাও আছি—পূজার সেরা মঞ্চে

অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, নপাড়া সম্মিলিত সার্বজনীন দুর্গোৎসব ২০২৬—সতীন সেন সংসদ এ বছর পূজা প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ অংশগ্রহণ করছে। ৭৭ বছরের ঐতিহ্য, সকলের ভালোবাসা এবং আমাদের প্রিয় “জলের ঠাকুর”-কে সঙ্গে নিয়ে আমরা এবার প্রতিযোগিতার মঞ্চে।

এই অংশগ্রহণ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়—এটি আমাদের দীর্ঘ পথচলা, ঐক্য, সৃজনশীলতা ও ভক্তির উদ্‌যাপন। সকলের আশীর্বাদ ও সহযোগিতায় আমাদের প্রিয় দুর্গোৎসব এগিয়ে যাক সাফল্যের পথে।

আমরা প্রস্তুত—আমরাও আছি!

জলের ঠাকুর

জলের ঠাকুর

গত ৭৭ বছর ধরে পাড়ার ছোট্ট পুকুরটি দুর্গাপূজার সময় হয়ে ওঠে এক অনন্য উৎসবের স্থান। প্রতি বছর পুকুরের জলের উপর সুন্দর করে তৈরি হয় পূজামণ্ডপ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, মা দুর্গা যেন জলের উপরেই অধিষ্ঠিত।

সন্ধ্যা নামলেই রঙিন আলোর প্রতিফলন পুকুরের জলে ঢেউ তোলে। বাবা-মায়ের হাত ধরে ছোটরা আসে ঠাকুর দেখতে, আর বয়স্করা স্মৃতিচারণ করেন তাঁদের ছোটবেলার পূজার দিনগুলোর কথা।

সময়ের সঙ্গে প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু এই প্রিয় ঐতিহ্য আজও একইভাবে বেঁচে আছে। আর তাই সকলের ভালোবাসায় এই পূজা পরিচিত হয়েছে—“জলের ঠাকুর” নামে।

আমরা আসছি

ঢাকের তালে, আলোর সাজে আর নতুন ভাবনায় আমরা আবার আসছি। ৭৭ বছরের ঐতিহ্য সঙ্গে নিয়ে নপাড়া সম্মিলিত সার্বজনীন দুর্গোৎসব ২০২৬—সতীন সেন সংসদ প্রস্তুত হচ্ছে এক স্মরণীয় উৎসবের জন্য।

অপেক্ষা আর কিছু দিনের—আমরা আসছি!

শুভারম্ভের কিছু মুহূর্ত

আর মাত্র ৫০ দিন

আর মাত্র ৫০ দিন

দুর্গাপূজার আর মাত্র ৫০ দিন বাকি! খবরটি শুনেই ছোট্ট মেঘের মন আনন্দে নেচে উঠল। সে মাকে বলল, “এবার আমি লাল পাঞ্জাবি পরব আর সব প্যান্ডেল ঘুরব!”

পাড়ার মাঠে তখন বাঁশ বাঁধার কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকের আওয়াজ এখনো শোনা যায়নি, তবু বাতাসে যেন উৎসবের গন্ধ। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে মেঘ একটু দাঁড়িয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ দেখে। সে মনে মনে দিন গোনে—৪৯, ৪৮, ৪৭…

মেঘ জানে, অপেক্ষার প্রতিটি দিন তাকে মা দুর্গার আগমনের আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে।

🙏 জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি — বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র 🙏

🙏 জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি — বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র 🙏

আজ ৪ঠা আগস্ট। বাঙালির সবচেয়ে চেনা কণ্ঠস্বরের মানুষটির জন্মদিন।

তিনি কোনও দিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাততালি কুড়োননি। তাঁর মুখ অনেকেই চিনতেন না। কিন্তু তাঁর কণ্ঠ? সেই কণ্ঠ চেনে না, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া কঠিন।

মহালয়ার ভোরে যখন অন্ধকার এখনও কাটেনি, যখন রেডিওর নব ঘুরিয়ে গোটা পরিবার চুপ করে বসে থাকে — তখন যে কণ্ঠ ভেসে আসে, সেটাই বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। "মহিষাসুরমর্দ্দিনী"-র সেই চণ্ডীপাঠ। সেই মুহূর্তে আমরা বুঝে যাই, মা আসছেন।

বাণীকুমারের রচনা, পঙ্কজ কুমার মল্লিকের সুর — আর তাঁর কণ্ঠ। এই তিনজন মিলে যা সৃষ্টি করেছিলেন, তা আর নিছক একটি বেতার অনুষ্ঠান রইল না। হয়ে উঠল বাঙালির উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা।

সেই সুরে, সেই কণ্ঠে ভাসে দেবী মহাত্ম্যের অনন্ত বার্তা:

যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥
(যে দেবী সকল প্রাণীতে শক্তিরূপে বিদ্যমান, আমরা তাঁকে বারবার প্রণাম করি।)

যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥
(যে দেবী সকল প্রাণীতে মাতারূপে বিদ্যমান, আমরা তাঁকে বারবার প্রণাম করি।)

যা দেবী সর্বভূতেষু বুদ্ধিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥
(যে দেবী সকল প্রাণীতে বুদ্ধিরূপে বিদ্যমান, আমরা তাঁকে বারবার প্রণাম করি।)

এই শ্লোকগুলি শুনলেই বাঙালির চোখ ভিজে যায়। কারণ এটা শুধু স্তোত্র নয় — এটা ঘরে ফেরার ডাক। মা আসছেন, এই খবরটুকু।

একটা কথা আজ মনে পড়ে। একবার এই অনুষ্ঠান বদলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, অন্য কণ্ঠে। বাংলা তা মেনে নেয়নি। প্রতিবাদের চাপে পরের বছরই ফিরে এল সেই পুরনো রেকর্ডিং। মানুষ ভালোবাসা দিয়ে যা রক্ষা করে, সময় তা মুছতে পারে না।

তিনি নেই। কিন্তু প্রতি বছর মহালয়ার ভোরে তিনি ফিরে আসেন। ঠাকুমার ঘরে যে কণ্ঠ বেজেছিল, আজ নাতির মোবাইলেও সেই একই কণ্ঠ বাজে। প্রজন্ম বদলায়, যন্ত্র বদলায় — তিনি বদলান না।

আজ তাঁর জন্মদিনে সতীন সেন সংসদ (সংঘ)-এর পক্ষ থেকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।

আপনার কণ্ঠেই আমাদের পুজো শুরু হয়। আপনি বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। 🙏

🏮খুঁটি পূজা ২০২৬ — শুভ সূচনা হল🏮

আজ সতীন সেন সংসদ (সংঘ)-এ সম্পন্ন হল খুঁটি পূজা।

মন্ত্রোচ্চারণ, ঢাকের বাদ্যি আর সবার সম্মিলিত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে মাটিতে প্রোথিত হল সেই পবিত্র খুঁটি। আর সেই মুহূর্তেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল আমাদের দুর্গা পূজা ২০২৬-এর যাত্রা।

আজকের এই শুভ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী সজল ঘোষ — বিধায়ক ও কলকাতা পুরসভার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তাঁর উপস্থিতি ও শুভেচ্ছা আমাদের এই যাত্রার সূচনাকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। আমরা তাঁর কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

পাড়ার ছোট-বড় সবাই আজ একসাথে দাঁড়িয়েছিলেন। কারও হাতে ফুল, কারও মুখে হাসি, সবার মনে এক অপেক্ষা — মা আসছেন।

এবার শুরু হবে আমাদের মন্ডপ নির্মাণের কাজ — ময়ূরীর দেশে। প্রতিটি দিন, প্রতিটি ধাপের ছবি ও খবর আমরা আপনাদের সাথে ভাগ করে নেব।

আজকের এই শুভ দিনে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনারাই আমাদের শক্তি।

যাত্রা শুরু হল। মায়ের আগমনের অপেক্ষায় আমরা। 🙏

সতীন সেন সংসদ (সংঘ)

🏮মা আসছেন ময়ূরীর দেশে🏮

এবার সতীন সেন সংসদ (সংঘ) নিয়ে আসছে এক অভূতপূর্ব স্বপ্ন।

দুর্গা পূজা ২০২৬ — আমাদের মন্ডপ হবে ময়ূরীর দেশ। একটি রাজ্য যেখানে প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর পাখি ময়ূরের সৌন্দর্য এবং রাজকীয়তা ফুটে উঠবে প্রতিটি কোণে।

ময়ূর শুধু একটি পাখি নয় — এটি দেবীর প্রতীক। তার রঙিন পালক ধারণ করে অসীম রঙের খেলা। তার রাজকীয় চাল বলে দেয় শক্তি এবং গর্বের কথা। এই সৌন্দর্য, এই মহিমা — এসবই আমরা নিয়ে আসছি মায়ের স্বাগতে।

এই ভিডিওতে দেখুন সতীন সেন সংসদ (সংঘ)-এর সম্পূর্ণ ডিজাইন — নীলাভ আকাশের মতো রঙ, সোনালি আলোর জ্যোতি, সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়া। প্রতিটি পালক, প্রতিটি মোটিফ, প্রতিটি আলো — সবকিছুই গড়া হয়েছে মায়ের প্রতি আমাদের গভীর ভালোবাসায়।

আগামী কয়েক সপ্তাহে এই স্বপ্ন বাস্তব হবে। আমাদের নির্মাণ দল কাজ করবে দিনরাত — ইট গেঁথে, রঙ ফুটিয়ে, আলো সাজিয়ে তৈরি করবে এই অনন্য মন্ডপ।

এবং যখন দুর্গা পূজা আসবে, তখন মা দাঁড়াবেন এই ময়ূরীর দেশের হৃদয়ে, তাঁর চারপাশে থাকবে সৌন্দর্য, শক্তি এবং আশীর্বাদের চিরন্তন গল্প।

সতীন সেন সংসদ (সংঘ) প্রতিটি পর্যায়ে আপনাদের সাথে শেয়ার করব নির্মাণের খবর। এই যাত্রার অংশীদার হন আপনিও।

ময়ূরীর দেশে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। 🙏

মায়ের আগমনী, আনন্দের বার্তা

মায়ের আগমনী, আনন্দের বার্তা

শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলায় জানান দিচ্ছে — মা আসছেন

ঢাকের বোল আর শিউলির গন্ধে চারিদিক মুখরিত হয়ে উঠছে। আবার একবার প্রকৃতি সেজে উঠেছে উৎসবের রঙে, আর আমাদের হৃদয় ভরে উঠেছে প্রতীক্ষার আনন্দে।

সতীন সেন সংসদ (সংঘ)-এর পক্ষ থেকে সকল বন্ধু, প্রতিবেশী, শুভানুধ্যায়ী এবং পরিবারবর্গকে জানাই আন্তরিক আমন্ত্রণ — দুর্গাপূজা ২০২৬-এর উৎসবে সামিল হওয়ার জন্য।

গত বছরগুলোর মতোই এবারও আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ — ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির মেলবন্ধনে এক অনবদ্য পূজা আয়োজনের। ষষ্ঠীর বোধন থেকে দশমীর সিঁদুর খেলা পর্যন্ত প্রতিটি দিন সাজানো হয়েছে ভক্তি, আনন্দ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বর্ণিল আয়োজনে — সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, খাদ্য উৎসব, শিশুদের প্রতিযোগিতা, এবং প্রতিবেশীদের মিলনমেলা।

মা দুর্গা আসুন, অসুরনাশিনী রূপে আমাদের মাঝে শক্তি, শান্তি ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ বর্ষণ করুন — এই প্রার্থনা নিয়েই আমরা প্রস্তুত হচ্ছি এবারের পূজার জন্য।

আপনাদের উপস্থিতি ও আশীর্বাদ ছাড়া এই উৎসব অসম্পূর্ণ। তাই সবান্ধবে, সপরিবারে চলে আসুন — একসাথে মেতে উঠি মায়ের আরাধনায়, আনন্দে, আর মিলনের উৎসবে।

📅 তারিখ: ২ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার

📍 স্থান: সতীন সেন সংসদ (সংঘ) পূজা প্রাঙ্গণ

"যত মত তত পথ, সবার মাঝে মা এক" — আসুন, সবাই মিলে উৎসবকে করি সার্থক।

শুভ শারদীয়া! — সতীন সেন সংসদ (সংঘ) কমিটির পক্ষ থেকে

সতীন সেন সংসদ (সংঘ) ক্লাব খুঁটি পুজো ২০২৬

সতীন সেন সংসদ (সংঘ) ক্লাব খুঁটি পুজো ২০২৬

বর্ষার আকাশ একটু একটু করে পরিষ্কার হচ্ছে। হাওয়ায় শিউলি ফুলের গন্ধ তখনও আসেনি, কিন্তু পুজোর গন্ধ? সেটা এসে গেছে — ঢাকের বাড়ি, শঙ্খধ্বনি, আর উলুধ্বনির সাথে।

সতীন সেন সংসদ (সংঘ) ক্লাবের মাঠে সেদিন বিকেলে এক অন্যরকম আমেজ। রাস্তার দুপাশে আলপনা আঁকা, গেটে আমপাতার তোরণ, আর মাটিতে লাল গালিচার ওপর সাজানো পুজোর সরঞ্জাম। খুঁটি পুজো — দুর্গাপুজোর সবচেয়ে প্রথম এবং পবিত্র অনুষ্ঠান। আজ থেকেই মা দুর্গাকে আনুষ্ঠানিক নিমন্ত্রণ জানানো হলো।

পুরোহিত মশাই শ্বেত ধুতি-পাঞ্জাবি পরে মন্ত্রোচ্চারণ শুরু করলেন। ধুনোর ধোঁয়া ঘিরে ধরল চারপাশ। গাঁদা ফুল, বেলপাতা, দূর্বা ঘাস — সব সাজানো ছিল যত্ন করে। যখন কাঁঠাল কাঠের খুঁটি মাটিতে পোঁতা হলো — সেই মুহূর্তে যেন আকাশ থেকে আশীর্বাদ নেমে এলো। উলুধ্বনিতে কেঁপে উঠল গোটা পাড়া।

ক্লাবের সভাপতি মঞ্চে উঠে বললেন, "এবার আমাদের পুজোর থিম হবে — বাংলার শিল্পী ও কারিগরদের শ্রদ্ধাঞ্জলি। যাঁদের হাতের ছোঁয়ায় মাটি হয়ে ওঠে মা দুর্গা, বাঁশ হয়ে ওঠে প্যান্ডেল

— তাঁদেরই গল্প বলবে আমাদের পুজো।"

জোরদার হাততালিতে ফেটে পড়ল উপস্থিত জনতা।

বাচ্চারা দৌড়াদৌড়ি করছে, বড়রা পুরনো বন্ধুদের সাথে গল্প জমাচ্ছে, মায়েরা প্রসাদের থালা সাজাচ্ছে — আর ঢাকিরা? তাঁরা তো থামার নামই নেই! প্রতিটি তালে যেন একটাই বার্তা — "মা আসছে! মা আসছে!"

সন্ধ্যার আলো যখন ম্লান হয়ে এলো, তখন মাটিতে পোঁতা সেই খুঁটিটার দিকে তাকিয়ে সবার চোখে একটাই স্বপ্ন — এবারের পুজো হবে অবিস্মরণীয়। সতীন সেন সংসদ (সংঘ) ক্লাবের দুর্গাপুজা ২০২৬-র শুভ যাত্রা শুরু হয়ে গেছে।

আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই... শারদীয়ার আলোয় ভেসে যাবে গোটা পাড়া। 🪷

রথযাত্রার শুভ সূচনায়, মা দুর্গার আগমনের অপেক্ষায়

রথযাত্রার শুভ সূচনায়, মা দুর্গার আগমনের অপেক্ষায়

রথযাত্রা শুধু ভগবান জগন্নাথের মহোৎসব নয়, এটি বাঙালির মনে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনেরও এক মধুর বার্তা বহন করে। প্রচলিত বিশ্বাস ও লোকসংস্কৃতিতে রথের চাকা গড়াতে শুরু করলেই মানুষ অপেক্ষা করতে থাকে মা দুর্গার আগমনের জন্য। সেই প্রতীক্ষা ধীরে ধীরে আনন্দ, উৎসাহ ও উৎসবের আবহে রূপ নেয়।

রথযাত্রার এই শুভ সূচনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আর বেশি দেরি নেই, মা আসছেন। তাই আসুন, ভক্তি, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আমরা সবাই মিলে শারদোৎসবের প্রস্তুতি শুরু করি এবং মা দুর্গার আগমনের আনন্দকে আন্তরিকভাবে বরণ করে নিই।

অপেক্ষার ১০০ দিন

অপেক্ষার ১০০ দিন

আজ থেকে আর মাত্র ১০০ দিন। ক্যালেন্ডারের পাতায় সংখ্যাটা ছোট হলেও, বাঙালির মনে এর অর্থ অনেক বড়। যেন অপেক্ষার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল।

কাশফুল এখনও পুরোপুরি ফুটেনি, শিউলির গন্ধ এখনও ভোরের বাতাসে মেশেনি। তবুও মন যেন আগাম শুনতে পাচ্ছে ঢাকের আওয়াজ, দেখতে পাচ্ছে আলোর সাজে সেজে ওঠা প্যান্ডেল, আর অনুভব করছে প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো সেই আনন্দের মুহূর্তগুলো।

এই ১০০ দিন শুধু সময়ের হিসাব নয়; এটি স্মৃতি গড়ার প্রস্তুতি, নতুন স্বপ্ন দেখার শুরু এবং আবার একসঙ্গে হাসার প্রতিশ্রুতি। প্রতিটি দিন আমাদের আরেকটু করে কাছে নিয়ে যাবে সেই মহালয়ার ভোর, দেবীর আগমন এবং চার দিনের অনাবিল উৎসবের।

চলুন, আজ থেকেই শুরু হোক অপেক্ষা। কারণ আর মাত্র ১০০ দিন, তারপরই মা দুর্গার আগমনে ভরে উঠবে আনন্দ, ভালোবাসা আর উৎসবের রঙে আমাদের চারপাশ।

উমা আসার অপেক্ষায়....

উমা আসার অপেক্ষায়....
পাহাড়, নদী, কাশফুল—সব যেন এক অদৃশ্য প্রতীক্ষায় মগ্ন। গ্রামের পুরনো বটগাছের নিচে বসে ঠাকুমা প্রতিদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেন, "আর ক'টা দিন, তারপরই উমা আসবে।" সারাবছর যে বাড়িটা নিঃশব্দে থাকে, আশ্বিনের হাওয়া লাগতেই সেখানে শুরু হয় ব্যস্ততা। মাটির প্রতিমায় ধীরে ধীরে প্রাণের ছোঁয়া দেন শিল্পী, উঠোনে আলপনার নকশা আঁকে ছোটরা, আর শিউলির গন্ধে ভোরের বাতাস ভরে ওঠে। যেন প্রকৃতিও জানে—মা আসছেন। সবার কাছে উমার আগমন শুধু পূজা নয়, ফিরে পাওয়ার আনন্দ। দূরে থাকা ছেলেমেয়েরা বাড়ি ফেরে, অভিমান ভুলে আত্মীয়রা একসঙ্গে বসে, পুরনো হাসি আবার ফিরে আসে। চার দিনের জন্য হলেও পৃথিবীটা যেন একটু বেশি সুন্দর, একটু বেশি আপন হয়ে ওঠে। তাই প্রতি বছর, ক্যালেন্ডারের পাতায় আশ্বিনের দিন গোনা শুরু হলেই মন বলে ওঠে— "উমা আসার অপেক্ষায়..." কারণ উমার আগমন মানেই শুধু দেবীর আগমন নয়, ভালোবাসা, মিলন আর নতুন আশার ফিরে আসা।
← সব অনুষ্ঠান